যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিবাসীদের সরকারি কল্যাণভাতা প্রাপ্তির হারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের নাম থাকলেও ভারতের নাম উল্লেখ নেই। এই তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও চীনসহ প্রায় ১২০টি দেশের নাম রয়েছে।
‘ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার রিসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন’ শিরোনামের এই চার্টে দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে আগত ৫৪.৮% অভিবাসী পরিবার, পাকিস্তানের ৪০.২%, নেপালের ৩৪.৮%, চীনের ৩২.৯% এবং ইউক্রেনের ৪২.৭% অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা পান।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয়-আমেরিকানদের উচ্চ আয়ই এই তালিকায় দেশটির নাম না থাকার পেছনে বড় কারণ হতে পারে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলোর গড় বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার, যা অন্যান্য এশীয় পরিবারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যহারে বেশি।
২০২৩ সালের তথ্য বলছে, ভারতীয় অভিবাসী নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলোর গড় আয় ১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার, যা মার্কিন-জন্ম নেওয়া ভারতীয়দের নেতৃত্বাধীন পরিবারের থেকেও বেশি। ১৬ বছর বা তদূর্ধ্ব ভারতীয়-আমেরিকানদের ব্যক্তিগত মধ্যম বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার ৩০০ ডলার, যা সামগ্রিক এশীয় জনগোষ্ঠীর আয় (৫২ হাজার ৪০০ ডলার) থেকে অনেক বেশি।
পিউ রিসার্চের প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারতীয়-আমেরিকানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী, যারা মোট এশীয় জনসংখ্যার প্রায় ২১%। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উচ্চ আয়ের স্তর সরকারি সাহায্যের প্রতি ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের নির্ভরতা কমিয়ে দেয়, যা ট্রাম্পের প্রকাশিত তালিকায় ভারতের অনুপস্থিতির একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা।
