আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার।
রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, সরকার নিজেই হ্যাঁ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাবে। এক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই।” তিনি উল্লেখ করেন যে সরকার টপ লিগ্যাল এক্সপার্টদের কাছ থেকে লিখিত মতামত পেয়েছে, যা অনুযায়ী সরকার চাইলে প্রচারণা চালাতে পারে।
গণভোটের প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। শফিকুল আলম জানান, সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন ও সচেতনতা তৈরি করবে।
নির্বাচন আয়োজনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সোশাল মিডিয়াকে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে কীভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, অনেক ভায়োলেন্স ইনস্টিগেট করা হচ্ছে। তাছাড়া পতিত স্বৈরাচারের লোকেরা ইলেকশন ডিজরাপ্ট করার চেষ্টা করবে। তবে সিকিউরিটি ফোর্সেস পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাব থাকবে। এসব প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের কেবল ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।
ব্যালটে উল্লেখিত প্রস্তাবগুলো হলো:
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
(গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে—সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
