যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টে বড় পরিসরের কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোট কর্মীদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে বিদায় জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সময় বুধবার অনেক কর্মীকে বাড়িতে থাকার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এক ধাক্কায় ৩০০ জনেরও বেশি সাংবাদিক ও কর্মী চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকাটিকে আবার লাভজনক করে তুলতে ব্যবস্থাপনা দলকে চাপ দিয়ে আসছিলেন তিনি। লোকসান কমাতে বড় ধরনের এই ছাঁটাই করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছাঁটাইয়ের ফলে পত্রিকাটির বিভিন্ন বিভাগে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। মেট্রো ডেস্কের জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। খেলা বিভাগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বুকস বিভাগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি পডকাস্ট অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে এই পরিবর্তনকে “নতুন দিনের সূচনা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, জেফ বেজোস এখনো প্রকাশনাটির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিনি চান এটি আরও বড় ও আধুনিক হয়ে উঠুক। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদ কভারেজেও প্রভাব পড়বে। এ ক্ষেত্রেও জনবল কমানো হচ্ছে, যদিও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিদেশি ব্যুরো চালু থাকবে।
অন্যদিকে, পত্রিকাটির অনেক সাংবাদিক এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করে বা শুধু খরচ কমিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, শেষ পর্যন্ত বেজোস পত্রিকাটি বিক্রি করে দিতে পারেন। আবার অনেকে মনে করছেন, ঐতিহ্যবাহী এই সংবাদমাধ্যমের জন্য নতুন মালিক বা অভিভাবক প্রয়োজন।
কর্মীদের সংগঠনও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, যদি বর্তমান মালিক প্রতিষ্ঠানটিতে যথেষ্ট বিনিয়োগে আগ্রহী না হন, তাহলে নতুন অভিভাবক খোঁজা প্রয়োজন। কারণ বহু প্রজন্ম ধরে এই পত্রিকাটি লাখ লাখ পাঠককে সেবা দিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে জেফ বেজোস ২৫ কোটি ডলারে ওয়াশিংটন পোস্টের মালিকানা কিনেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক লোকসান ও বড় পরিসরের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ এখন নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
