- দেশের ১০.৪ শতাংশ এলাকা এখন খরাপ্রবণ, জানালো পরিবেশ অধিদপ্তর
গত দুই দশকে দেশে মাঝারি থেকে অতি তীব্র মাত্রার ভূমি অবক্ষয় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে অবক্ষয়প্রাপ্ত ভূমির পরিমাণ ছিল ১০.৭০ মিলিয়ন হেক্টর, ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.২৪ মিলিয়ন হেক্টরে। অর্থাৎ গত ২০ বছরে দেশে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ হেক্টর জমি অবক্ষয়ের শিকার হয়েছে, যার বার্ষিক গড় প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর। একইসঙ্গে দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১০.৪ শতাংশ এলাকা এখন খরাপ্রবণ হয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে ‘বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এই উদ্বেগজনক তথ্য জানান। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘রেংল্যান্ডস: রিকোনাইজ, রেসপেক্ট, রিস্টোর’ (চারণভূমি: স্বীকৃতি, সম্মান ও পুনরুদ্ধার)।
পরিবেশমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরাসরি মরুভূমির দেশ না হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত ভূমি ব্যবহারের কারণে মরুময়তা ও খরার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে দেশের চারটি অঞ্চল এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে—উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র খরায় কৃষি ও সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসনে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য, পার্বত্য অঞ্চলে ক্ষয়প্রাপ্ত পাহাড়ি ভূমিতে ধস ও উর্বরতা হারাচ্ছে, আর নদী অববাহিকায় ভঙ্গুর ইকোসিস্টেমের কারণে নদীভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের মরুময়তা প্রতিরোধ কনভেনশনে (ইউএনসিসিডি) স্বাক্ষর করার পর থেকে টেকসই উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন মোকাবিলায় সামাজিক বনায়ন এবং উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া কৃষিখাতে জৈব সারের ব্যবহার এবং জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত সম্প্রসারণে কাজ চলছে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা হিসেবে মন্ত্রী অবক্ষয়প্রাপ্ত বনভূমি, জলাভূমি ও চরাঞ্চল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি খরা মোকাবিলায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের ভূমি, খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’
ভূমি অবক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি বৈশ্বিক সংকট আখ্যা দিয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অধিকতর অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা খানম। কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
