সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে হবে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এখন থেকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরীক্ষার মান ও মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একই দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্র হওয়া যৌক্তিক নয়। কোনো বোর্ড তুলনামূলক সহজ প্রশ্ন করে, আবার কোনো বোর্ড কঠিন প্রশ্ন দেয়। এ বৈষম্য দূর করতেই অভিন্ন প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। একই নিয়ম ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কার্যকর থাকবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইংরেজি মাধ্যমের ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা) এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এর চূড়ান্ত পর্ব সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরা হয়।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে।

সেশনজট কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিলেবাস শেষ হওয়ার পরপরই পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ কারণে এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং ওই বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৬ জুন।

আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। অভিন্ন প্রশ্নপত্র ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থাও রয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো এলাকায় দুর্যোগ দেখা দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারের একাধিক ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।