বিমানবন্দরগুলোকে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে কয়েকটি নির্দেশ : বেবিচক

দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

মঙ্গলবার বেবিচক থেকে সবগুলো বিমানবন্দরে পাঠানো চিঠিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, সবার নিরাপত্তা তল্লাশি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে।

দেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে তিনটি আন্তর্জাতিকে এবং কক্সবাজার, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল ও সৈয়দপুরে মোট পাঁচটি অভ্যন্তরীন বিমান বন্দর রয়েছে। এই বিমানবন্দরগুলোর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বেবিচকের।

এ সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা কাউছার মাহমুদ বলেন, “চলমান সহিংসতাসহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সবাই যাতে নিরাপদে বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে, সেটা নিশ্চিতে বেবিচক সতর্ক থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।”

চিঠিতে বলা হয়েছে, “দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বিমানবন্দরসমূহে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মাত্রায় জোরদার করার লক্ষ্যে সকল আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের নিচের নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হল।”

• কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
•বিমানবন্দরে শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনুমোদিত যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
•বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে হবে।
•বিমানবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথে সবারই (Random) নিরাপত্তা তল্লাশি করতে হবে।
•যাত্রী, কেবিন ব্যাগেজ, কার্গো ও যানবাহনের যথাযথ তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে।
•বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর এলাকা ও সীমানা প্রাচীর এলাকায় নিয়মিত ও ঘন ঘন নিরাপত্তা টহল পরিচালনা করতে হবে।
•নিরাপত্তা সরঞ্জাম (যেমন- জ্যামার, ইডিএস, ইটিডি, মেটাল ডিটেক্টর, সিসি ক্যামেরা ইত্যাদি) প্রতিদিন পরীক্ষা করে তাদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
•দায়িত্ব পালনের আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিতভাবে ব্রিফ করে সর্বদা সতর্ক অবস্থায় রাখতে হবে।
•কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
•সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
•গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক লাইন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করে অগ্নি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
•বিমানবন্দরের অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও সতর্কতা ২৪/৭ সক্রিয় রাখতে হবে।

গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২৭ ঘণ্টা লেগে যায়। ওই ঘটনায় কেপিআইভুক্ত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এর তিন সপ্তাহ পর গত ৬ নভেম্বর ভোরে কার্গো কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়ার সময় আট নম্বর হ্যাঙ্গার গেইটে ১৫টি মোবাইল ফোনসহ আটক হন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য জেনারুল ইসলাম, যিনি সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভের ঘোষণার মধ্যে গত তিন দিন ধরে দেশের আবার দেশে জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে বিমানবন্দরগুলোতে চিঠি দেওয়ার কথা বলেছেন বেবিচক কর্মকর্তারা।