ইনকিলাব মঞ্চের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি বলেন, গত ১৮ মাস গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করলেও বারবার মৌলিক সাংবাদিকতায় যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থতার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে হওয়া কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টে দাবি করা হয় যে তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি সাধারণত সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয় এবং এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।
তিনি অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের বড় বড় টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ অনেক গণমাধ্যম সেই ফেসবুক পোস্টকে সত্য ধরে নিয়ে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এতে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
শফিকুল আলম বলেন, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন যে জাবেরসহ আন্দোলনকারীদের কেউই গুলিবিদ্ধ হননি।
সংবাদ সংগ্রহ একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক গণমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, বরং পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শফিকুল আলম তার পোস্টে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি ও হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত শান্ত করতে সহায়তা করে।
তিনি অতীতের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পরও ভুল ও অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। সে সময় উচ্ছৃঙ্খল জনতা স্কুলের ভেতরে কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখে এবং আরেকটি গ্রুপ সচিবালয়ে ভাঙচুর চালায়। তার মতে, ‘গতকালের বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির জন্ম দিতে যাচ্ছিল।’
সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার কথা বলতে সাংবাদিকেরা প্রায়ই সোচ্চার হন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন।
