শিক্ষকদের নির্বাচনে সুযোগ বহাল ও মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারণা বন্ধের আহ্বান

  • ইসির কাছে জামায়াতের ৫ দাবি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা এবং মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনী প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং শিশির মোহাম্মদ মনির।

বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্ন বিষয়ে দলের মতামত নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তার দাবি, সংবিধান কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সে কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হলে তা নাগরিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এমন সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আইনি জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।

বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয় যে, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা উচিত। তাদের মতে, এসব ব্যক্তি সরকারি প্রভাব ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অসম পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, সভা বা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করারও প্রস্তাব দেয় জামায়াত। এতে নির্বাচনী মাঠে সমতা বজায় থাকবে বলে মনে করে দলটি।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। জামায়াতের দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো ব্যক্তির নিয়োগ নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এজন্য তার নিয়োগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও একটি প্রস্তাবে বলা হয়, যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বা রাজনীতি পরিচালনা নিষিদ্ধ রয়েছে, সেসব দলের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট বিধিনিষেধ থাকা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখাসহ কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব সুপারিশ এখন সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হবে।