- নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট যখন আট দফা দাবিতে রাজপথে লংমার্চ ও জনসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে, তখন দলটির ৩৪ সংসদ সদস্যের একটি দল দীর্ঘ বিদেশ সফরে রয়েছে। ১৭ দিনের এই সফরে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে রয়েছেন পরিবারের সদস্যসহ মোট ৭১ জন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুই দফায় সফরকারীরা মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তিন দিন অবস্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর তারা সিঙ্গাপুরে যান। সিঙ্গাপুর সফর শেষে ২১ সেপ্টেম্বর দলটি ফিলিপাইনে পৌঁছায়। সফরসূচি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইন থেকে বাহরাইন হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। সেখানে ওমরাহ পালন শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর অথবা ১ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
দলটির একসঙ্গে বিদেশ সফরের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলো যখন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করছে, তখন জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্যের দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরটির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্পর্ক নেই। এটি মূলত সংসদ সদস্যদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষামূলক ও পারিবারিক সফর।
সফরে থাকা সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, পিরোজপুর-১ আসনের মাসুদ সাঈদী এবং বাগেরহাট-২ আসনের শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। তাদের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান ও লেখক জিয়াউল হক।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে সফরকারী দলের সদস্যরা দেশটির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং রাজনৈতিক দল কেদিলান রাকাইয়াতের আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রধান মাসজলি মালিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম), কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন।
সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াতের আমিরের অনুমতি নেওয়ার পাশাপাশি স্পিকারকে অবহিত করেই তারা বিদেশ সফরে গেছেন। অনেক সংসদ সদস্যের আগে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি, রাজনীতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যেই এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সফরটিকে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, নতুন সংসদ সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত করাই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। সংসদ অধিবেশনের কারণে পূর্বনির্ধারিত সফরটি কিছুটা পিছিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া সেলের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এটি দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। দেশের দায়িত্ব পালনের জন্য নেতাদের আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাড়ানো প্রয়োজন। ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশেও এ ধরনের সফরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের একটি বড় অংশ বিদেশে অবস্থান করলেও একই সময়ে দেশে দলটির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। ২১ সেপ্টেম্বর রংপুরে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জোটের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
আট দফা দাবি সামনে রেখে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে জোটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ফলে একই সময়ে একদিকে জোটের রাজপথের কর্মসূচি, অন্যদিকে জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্যের বিদেশ সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
