তারেক রহমানকে ক্ষমতা ছাড়ার পথ নিজেকেই ঠিক করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন। তিনি কি হেলিকপ্টারে করে দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন, সেটা তাঁকেই ঠিক করতে হবে।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এরশাদও সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে তারেক রহমানকে তাঁর যাওয়ার রাস্তা নিজেকেই বেছে নিতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি সরকারে এসে জনগণের মানবাধিকার হরণ করছে এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের পরিণতি ইতিহাসে লেখা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর আমরা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। আপনারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু এই বিএনপি এখন সরকারে এসে নিজেরাই জনগণের মানবাধিকার হরণ করছে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।’

শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে জনগণের অধিকার হরণে যেসব আইন ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়েছে, বর্তমান সরকারও একই আইন ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের কাজ মানুষের মানবাধিকার রক্ষা করা। কিন্তু বর্তমান সরকার মানবাধিকার হরণের সব ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে গুম আইন ও মানবাধিকার আইন পাস করা হয়েছে এবং র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লংমার্চের পথে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, লংমার্চের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হওয়ায় গত রাত থেকে এর রুটের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলের ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়া হচ্ছে।

এ কাজে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের লোকজনও যুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি বা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে লংমার্চের গণজোয়ার বন্ধ করা সম্ভব হবে না। লংমার্চের দফা বাড়ছে, তবে সব দফা শেষ পর্যন্ত এক দফায় গিয়ে ঠেকবে।

তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত বাধাই আসুক, শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ সফল করা হবে। রংপুরে গিয়ে দেখা হবে বলেও নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্বোধনী সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম।

এ ছাড়া বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের বহর যাত্রা শুরু করে।