সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান

গণতান্ত্রিক সংস্কার, নীতিনির্ধারণ ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের আরও কার্যকর ও অর্থবহভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণরা। তাঁদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও পরবর্তী সময়ে সংস্কার ও নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি।

শনিবার ঢাকার ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে ‘আন্তঃপ্রজন্মীয় সংলাপ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘জয়ই (JoYEE)—Joining Youth in Effective Engagement in Reform Agendas in Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে তরুণদের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ও উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়।

ভয়েসের উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরার সঞ্চালনায় সংলাপ শুরু হয়। এতে ভয়েসের প্রতিনিধি তাসফিয়া তাসনিম নাবিলা ও তাজমিম হক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্যানেল আলোচনায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং এর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য দেখা গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন কমিশনে আলোচনা হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আদিবাসী অধিকারকর্মী হেমা চাকমা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। জাতি, দল ও মতনির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।

শিক্ষক ও অধিকারকর্মী ওলিউর রহমান সান বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের আগেই অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করছে। দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেক তরুণ বিদেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিটি আন্দোলনের জন্য ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্দোলনের সময় যে বিপ্লবী ভাষা তৈরি হয়েছিল, তা আমরা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি।’

সমাপনী বক্তব্যে দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার এস এম সাইফ কাদের রুবাব নাগরিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য নাগরিক শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন।

সংলাপে রাজনৈতিক কর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, অধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণ অংশীজন অংশ নেন।

আলোচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা, তরুণ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তরুণদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক সংলাপের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।