- নিজস্ব প্রতিবেদক
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ইতোমধ্যে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী দেলাওয়ার হোসেনকে চূড়ান্ত করেছে। তিনি মাঠে প্রচারণাও শুরু করেছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন। ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছিলেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট। আর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এবার উপনির্বাচনে নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে জামায়াত।
দেলাওয়ারকে প্রার্থী করেছে জামায়াত
গত ৩০ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন।
দেলাওয়ার হোসেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি।
প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। বিএনপি এখন ফ্যাসিস্ট মনোভাব পোষণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, মানুষ বিএনপিকে বর্জন করতে শুরু করেছে এবং এই পরিস্থিতিতে তিনি জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
বিএনপিতে আলোচনায় একাধিক নাম
উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি সাবেক এমপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।
মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, নেতা-কর্মীরা তার পক্ষেই কাজ করবেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আরও রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির আরেক সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ।
সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনবেন এবং মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।
অন্যদিকে ওবায়দুল্লাহ মাসুদের মত, ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা সত্যজিতের
দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ কুমার কুন্ডু।
তিনি জানিয়েছেন, দল তাকে বহিষ্কার করলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমও এই আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
১৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হবে। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়া হবে।
রিজভী জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপি বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতেও কাজ করছে। উপনির্বাচনের পাশাপাশি এ ধরনের সামাজিক ইস্যুকেও দল গুরুত্ব দিচ্ছে।
২৯ অক্টোবর ভোট
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ সেপ্টেম্বর। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর। পরদিন ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, একটি আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকা স্বাভাবিক। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও যিনি দলের হাল ধরে রেখেছিলেন, ভোটাররা শেষ পর্যন্ত তাকেই বেছে নেবেন বলে তিনি মনে করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বিএনপির বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
