- নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে পৃথক দুটি সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এদিন দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় সরকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। জনগণের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে আগের সময়ের দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জেলা পরিষদ প্রশাসকদের স্বচ্ছতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপরও জোর দেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদের প্রশাসকরা তাঁদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং প্রশাসকদের সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের ভূমিকার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান
পরে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং উভয় দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, সিরামিক, চা, পান ও ওষুধের মতো পণ্যের পাকিস্তানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। জবাবে রাষ্ট্রপতিও সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
হাইকমিশনার জানান, আগামী অক্টোবর মাসে ঢাকায় পাকিস্তানি পণ্যের একটি মেলার আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশের চায়ের প্রশংসা করে তিনি শুল্কমুক্ত সুবিধায় পাকিস্তানের বাজারে চা রপ্তানির আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন ইমরান হায়দার। দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ করতে এই রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তান হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
