বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসেও আগ্রহ, ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ইতিবাচক ইঙ্গিত সরকারের

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার। দেশীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে একটি টেকসই ‘মিক্সড ফ্লিট’ বা মিশ্র বহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে এয়ারবাস অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বুধবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী আফরোজা খানম ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ, বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমান বাংলাদেশের বহরে এয়ারবাস যুক্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেশের স্বার্থ বিবেচনায় একটি টেকসই মিশ্র বহর গঠনের লক্ষ্যে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সরকারের আগ্রহের কথা জানান। জবাবে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ মার্ক সেরে শার্লেট, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সারাহ কুক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা, জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আনজা টারস্টেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের ডেপুটি চিফ বাইবা জেরিন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

বিমানের জন্য নতুন উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে কয়েক বছর ধরেই বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার বোয়িংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। গত ৩০ এপ্রিল ঢাকায় বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের এই চুক্তির মাধ্যমে বহর আধুনিকায়নের বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তবে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও এয়ারবাস ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত ছিল। গত কয়েক মাস ধরে এয়ারবাসের কর্মকর্তারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও এয়ারবাসের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যান। জুন মাস থেকেই সরকার এয়ারবাসের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে মোট ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ ৮-৪০০ সিরিজের উড়োজাহাজ, যা মূলত স্বল্প দূরত্বের রুটে পরিচালিত হয়।

তবে এয়ারবাস যুক্ত হলে মিশ্র বহর পরিচালনার কৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও পরিচালন ব্যয় কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।