- নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণিকুলের প্রতি ছোটবেলা থেকেই দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে গাছপালা ও প্রাণীর যত্ন নেওয়া মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রাণীর প্রতি অকারণে নিষ্ঠুরতা না দেখিয়ে তাদের প্রতি মমত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকার সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, তেজগাঁও মহিলা কলেজ এবং টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়াশোনার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। গান, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও বাদ্যযন্ত্র চর্চার পাশাপাশি কিরাত চর্চারও পরামর্শ দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয়।
প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন। পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতন আচরণ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। গাছপালা ও প্রাণিকুলের প্রতি মমত্ববোধও সেই দায়িত্বশীলতার অংশ।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন ছাত্রী ও ৮ জন শিক্ষক এবং সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্রী ও ৪ জন শিক্ষক এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তেজগাঁও মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ৪৬ জন ছাত্রী ও ১১ জন শিক্ষক এবং শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন শ্রেণির ৪৭ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষকও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সাক্ষাতের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পায়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। তারা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া জীবনমুখী পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এই সাক্ষাৎ তাদের জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে বলেও তারা অনুভূতি প্রকাশ করে।
