জর্ডানে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত ৯ যুদ্ধবিমান

জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত নয়টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এর একটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। হামলার সময় ঘাঁটিতে থাকা কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে ‘ওয়ার্থগ’ নামে পরিচিত এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানটিতে সরাসরি আঘাত লাগে এবং এর একটি ডানা উড়ে যায়।

এর আগে বুধবার জর্ডানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন খোলা এলাকায় পড়ে বিস্ফোরিত হলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হামলায় কোনো মার্কিন সেনা বা সামরিক কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সিবিএস নিউজ জানায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ৩০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন, প্যাট্রিয়টসহ বিভিন্ন ধরনের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে আসছে।

হামলার পেছনে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালানোর পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো ডুবিয়ে দেয়। এর পরই জর্ডানে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলা চালানো হয়।

বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইরানি তেল ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিতেই পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন সামরিক সম্পদকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে।

জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটিকে গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।