- নিজস্ব প্রতিবেদক
উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল বৃত্তি বাড়ানো এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ আয়োজিত ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ এবং শিক্ষকদের নির্বাচিত সেরা গ্রন্থ ও গবেষণা নিবন্ধের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করা নয়। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি দেশের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানেও বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। গবেষণার ফলাফল যাতে শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবায় রূপ নেয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পে আগে ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হতো। বর্তমানে সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্প, মনোগ্রাফ ও অ্যাসাইনমেন্টের জন্য সরাসরি ইউজিসির আর্থিক সহায়তার আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
পিএইচডি গবেষকদের জন্যও সুযোগ বাড়ানোর কথা জানিয়ে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, বৃত্তির সংখ্যা ১৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে এই সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পোস্টডক্টরাল গবেষকদের বৃত্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে দেশে প্রথমবারের মতো একটি ‘উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিতে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আন্তর্জাতিকীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে এনে পাঠদান ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত করতে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইউনিট’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল শিল্পায়নে কাজে লাগানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের সেরা মৌলিক গ্রন্থ ও গবেষণা নিবন্ধের জন্যও পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
