- নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর)। সকাল ১০টায় দেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে একযোগে ফল প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানানো হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল তিনভাবে জানা যাবে। প্রথমত, শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল দেখতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।
চলতি বছর ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। একাধিক বিষয়ের খাতা চ্যালেঞ্জ করায় মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।
এর মধ্যে লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।
গত ১১ আগস্ট থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট রাত।
এবার পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগে ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের নিয়মে মূলত উত্তরপত্রে দেওয়া নম্বরের যোগফল ঠিক আছে কি না বা কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কি না, সেসব বিষয় যাচাই করা হতো। এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষা বোর্ডগুলোকে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ কারণে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক আবেদনের হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহী বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোর বোর্ডে ২৮ হাজারের বেশি, বরিশাল বোর্ডে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেট বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৩৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে আবেদনকারীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৬৭৬।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
এর আগে ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী এবার উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শুধু নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের হিসাবে এবার পাসের হার দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত বছরের তুলনায় কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং তুলনামূলক কম পাসের হারের কারণে এবার পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনও বেশি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফল দেখার উপায়
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে পুনর্নিরীক্ষণের ফল দেখতে পারবেন। আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানানো হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত পুনর্নিরীক্ষণ ফল প্রকাশের ওয়েবসাইট থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।
