সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রুদ্ধ, সরকার সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ: শফিকুর রহমান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, জনগণের নানা সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সরকার সময়ক্ষেপণ করছ এবং সংসদে বিরোধী দলের যৌক্তিক বক্তব্যও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্কার ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও সংসদ কার্যত সরকারি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিয়ে দফায় দফায় নোটিশ দিলেও তা সংসদে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সীমান্ত সমস্যার মতো স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যুতে দেওয়া নোটিশও প্রত্যাহার করতে চাপ দেওয়া হয়।’

বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে সংসদ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশে তেলের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো নয়। তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়েছে এবং এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংকটের মধ্যে সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখন অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে, তখন জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘গোটা সমাজ যখন সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন আমরা সংসদ সদস্যরা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াবো, এটা হতেই পারে না। আমরা স্পষ্ট বলে দিয়েছি, আমরা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি চাই না, প্লট চাই না এবং আমাদের এই অবস্থানে আমরা অটল আছি।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ১৮ কোটি মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বাড়তি সুযোগ-সুবিধা নেবেন না। ‘আমরা শাসক নয়, সেবক হতে চাই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় লংমার্চ, রংপুর লংমার্চের সংবাদ প্রচার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর অভিযোগ, তাঁর বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ খণ্ডিতভাবে প্রচার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্য বিকৃতভাবে বা খণ্ডিত আকারে (কাটপিস) প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।’

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সরকারের অনেক ভুল-ত্রুটি সংবাদমাধ্যমে যথাযথভাবে উঠে আসছে না।

সম্পাদক ও প্রকাশকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, বেতন ও বোনাসের মতো বিষয়গুলোতে মালিকপক্ষ অনেক সময় নীরব থাকে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলেও মালিক ও সংবাদকর্মীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমঝোতার অভাবে এই প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জনগণের অধিকার আদায়ে ঘোষিত সাত দফা দাবি কোনো দলীয় এজেন্ডা নয় বলেও দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের কথা বলার সুযোগ সীমিত হওয়ায় তাঁরা রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ‘হিডেন এজেন্ডা’র জন্য নয়, দেশ ও জনগণের স্বার্থেই তাঁরা আন্দোলন করছেন।