জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, বাড়ল লঞ্চের ভাড়া

  • নিজস্ব প্রতিবেদক 

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার নৌপথের যাত্রী পরিবহনেও বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লঞ্চে প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীভাড়া ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ২০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌপথে যাত্রীদের সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নৌযান মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এতে নৌযান পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে মালিকদের দাবির তুলনায় কম হারে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীভাড়া ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়বে। সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা হবে।

জ্বালানির দাম যেভাবে বেড়েছে

চলতি বছরের শুরুতে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, পেট্রোল ১১৮ টাকা এবং অকটেন ১২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।

ফেব্রুয়ারি থেকে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা করে কমানো হয়। তখন ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এরপর ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা করা হয়।

জুনে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এতে কেরোসিনের দাম দাঁড়ায় ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা।

সবশেষ ২০ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম জুনের তুলনায় লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মালিকদের দাবি ছিল আরও বেশি

নৌযান মালিকদের পক্ষ থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছিল বলে জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি নৌযানের ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে। ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে নৌযানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মালিকেরা ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন।

তবে যাত্রীদের আর্থিক সক্ষমতা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির হার কম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জ্বালানির দাম ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বাড়লেও নৌযানের ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তাঁর মতে, এতে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তুলনামূলকভাবে কম পড়বে।

ভাড়া বাড়ানো নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌযানের ভাড়া বাড়ানো জনজীবনে চাপ তৈরি করবে স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ভাড়া বাড়ানো কখনোই কাম্য নয়। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যখন ভাড়া সমন্বয় করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তখন যাত্রীদের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে নৌযান মালিকেরা যাতে নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়াতে না পারেন, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয় নজর রাখছে।

এর আগে মে মাসে বেড়েছিল লঞ্চ ভাড়া

এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গত ৭ মে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে জনপ্রতি যাত্রীভাড়া ২ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে ১৮ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়।

১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে ১৪ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময় সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ টাকা করা হয়।

এর কয়েক মাসের মধ্যেই আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নৌপথের যাত্রীভাড়া নতুন করে সমন্বয় করা হলো।