- নিজস্ব প্রতিবেদক
ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক হিসেবে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের যে দাবি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী করেছেন, সেটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই এ ঘটনায় জামায়াতকে দায়ী করার চেষ্টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রিজভীর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপানোর চেষ্টা অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।
এর আগে গত রোববার ঢাকার কমলাপুরে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জামায়াত নেতা হিসেবে দাবি করা হয়। ফটোকার্ডটিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ওই গণমাধ্যমে এমন কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়নি বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির একটি কর্মসূচিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, তা জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো উচিত ছিল।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীকে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা দুঃখজনক। এ ধরনের বক্তব্যের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। ওই ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী কেন লংমার্চ কর্মসূচি দিচ্ছে না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এর জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এসব বক্তব্য মূল ঘটনার তদন্তের বিকল্প হতে পারে না। কারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে ট্রেনে অগ্নিসংযোগসহ সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
