দেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। একই সঙ্গে টুথপেস্টের মান নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও বাজার তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত স্বাস্থ্যসচিব ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বিএসটিআই এবং সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন করে বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি থাকতে হবে। তদন্তে বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির মাত্রা, মানবস্বাস্থ্যের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সহনীয় মাত্রা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের মধ্যে ২৬টিতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, টুথপেস্টে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীর ও পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
রুলে টুথপেস্টের ক্ষেত্রে জাতীয় মানদণ্ড ও নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত টুথপেস্টের আমদানি, উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত পণ্য বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
মামলায় পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালত আগামী ২৫ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। এর আগে বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
