অতীত সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত হওয়া সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর বরখাস্ত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সদস্যরা পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে শত শত সদস্য চাকরি হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চাকরিচ্যুত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক সেনা সার্জেন্ট মো. পলাশ চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৪৫০ জন সৈনিক অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য ও তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও সামাজিক দুর্ভোগের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
তাদের দাবি, একই সময়ে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও সাধারণ সৈনিকদের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় তারা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত সব চাকরিচ্যুতির ঘটনা তদন্তে স্বাধীন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠনের দাবি জানান।
চাকরিচ্যুত সৈনিকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত হওয়া সদস্যদের পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন-ভাতা, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান; তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার; এবং চাকরিচ্যুতির ঘটনাগুলো তদন্তে স্বাধীন পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠন। তারা আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অন্যথায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, চাকরি হারানো ১ হাজার ৫২২ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতিনিধিরাও পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অনেক পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর তারা পুনর্বহালের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বিভাগীয় মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়টি চিহ্নিত করে। চাকরিচ্যুত সদস্যদের দাবি, এই পর্যবেক্ষণই প্রমাণ করে যে তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত অনেক সিদ্ধান্ত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নেওয়া হয়েছিল।
তারা আরও অভিযোগ করেন, পুনর্বহালের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির বিভিন্ন ইঙ্গিত ও সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও এখনো অধিকাংশ সদস্য চাকরিতে ফিরতে পারেননি। ফলে শত শত পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
চাকরি হারানো পুলিশ সদস্যদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন সিরাজুল হক প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং ন্যায়বিচার, সম্মান ও কর্মজীবনের অধিকার পুনরুদ্ধার করতে চান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিলে হাজারো পরিবার নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যদের অভিন্ন দাবি হলো, অতীতের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিরপেক্ষভাবে পুনর্মূল্যায়ন করে প্রকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
