নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আজাদ-এনজিও ভ্যাংচুর-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সংস্থার অভিযোগ, হামলাকারীরা অফিসের সামগ্রী লুট করার পাশাপাশি টিকাদান সামগ্রীও নষ্ট করেছে। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত আজাদ-এনজিও ভ্যাংচুর-এর কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং টিকাদানসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার বরাত দিয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলার সময় অফিসে একটি পিকআপ ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা সাম্মানন ডক্টর স্মৃতি সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলে যায়। মিরপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, আসলে রাজার ওই ১০ কাঠা জমি নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সে কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে ওই জমি দখলের জন্য হামলা চালানো হয়।
শাহ আলী থানার ওসি জানান, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের শাস্তির দাবি করেছেন।
তিনি জানান, মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাজা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা সরকারের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে গরিব, অসহায় মা ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।
তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে এই সেন্টারে যা ঘটেছে তা নিছক কোনো ডাকাতি বা হামলা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। সন্ত্রাসীদের আক্রমণে সেন্টারটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, “দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ২৫০ জনেরও বেশি একটি সন্ত্রাসী দল নিরপরাধ কর্মীদের জিম্মি করে এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এই বর্বর হামলায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।”
