জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধে সচেতনতার ওপর জোর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

কর্মক্ষেত্র ও অনলাইন পরিসরে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ‘জানবো, জানাবো, সহিংসতা থামাবো’ শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সহিংসতার ধরন ও ঝুঁকি শনাক্তকরণ, আইনি সহায়তা এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে ব্যক্তি পর্যায়ের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার পদক্ষেপের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেন।

আলোচনায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার পাশাপাশি সাইবার বুলিং, সাইবার হয়রানি এবং নিরাপদ অভিভাবকত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সহিংসতার পূর্বলক্ষণ চিহ্নিত করা, প্রচলিত ভুল ধারণা মোকাবিলা, কর্মক্ষেত্র ও অনলাইন পরিসরে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তির আইনি অধিকার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

পাশাপাশি শিশু, পরিবার ও সমাজের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

পদক্ষেপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এবিএম সিদ্দীক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধের শুরু হয় এর ধরন ও পূর্বলক্ষণ সম্পর্কে জানার মাধ্যমে। যথাসময়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো হলে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে পদক্ষেপের মাইক্রোফাইন্যান্স অপারেশন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক ও হেড অব সেফগার্ডিং সজীব হাসনাত সেফগার্ডিং এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ) মোছাঃ লিজা বেগম, পিএসসি। তিনি সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের আইনি অধিকার, নিরাপত্তা এবং অভিযোগ জানানোর সঠিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটলে নীরব না থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। এ সময় ৯৯৯ ও ১০৯সহ বিভিন্ন জরুরি সহায়তা ও সেবা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম কর্মীদের মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা সম্পর্কে ধারণা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের সময় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীলতার পরিবেশ গড়ে তুলতেও এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পদক্ষেপের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স বিভাগের যুগ্ম পরিচালক উম্মে সুমাইয়া মতিয়াতুর রাসুল।