গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত পুলিশের পদক্ষেপের পর: স্পিকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদ এখনই শূন্য হচ্ছে না। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা দেখার পর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার বিধান নেই। সংবিধানের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, কোনো সদস্য নিজে পদত্যাগ করলে অথবা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন আসে।

এর আগে ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরে তাঁর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয় দলটি। তবে শুধু দলীয় বহিষ্কারের কারণে তাঁর আসন শূন্য হয়নি।

এর মধ্যে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই মামলার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থা কী হয়, সেটি এখন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। আদালতের সিদ্ধান্তও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হতে পারেন। অন্যদিকে ৭০ অনুচ্ছেদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

এ ধরনের সাংবিধানিক যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে এবং এ বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধের পর গাজী নজরুলকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে কমিটি পুনর্গঠন করে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও সংসদে জানিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার সরাসরি কোনো বিধান সংবিধানে নেই।