পাঁচ বছরে সব সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেনের প্রস্তুতি শেষ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক 

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সেচ কাজে ব্যবহৃত সব ডিজেলচালিত পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর জন্য বিশদ নকশার কাজ শেষ হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সম্পূরক ও তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব এলাকায় ডিজেলচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়, সেগুলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুতের আওতায় নেওয়া হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সোলার থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরিবেশের ক্ষতি কমাতে লেড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় লিথিয়াম ব্যাটারি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

এদিকে বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অনিয়মের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্রের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্র সরকারের সামনে রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির একটি চিত্র পাওয়া গেছে এবং সেটিকে ভিত্তি করেই পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব এবং প্রকল্প তদারকির ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। যেসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ‘সেবা সহজীকরণ নির্দেশিকা ২০২৬’ এবং ‘জেলা প্রশাসকদের কার্যক্রম মূল্যায়ন নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

নাগরিক সেবা আরও সহজ করতে ডি-নথি, ই-নামজারি এবং ৯৯৯ ও ৩৩৩-এর মতো ডিজিটাল সেবা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য বিস্তারিত ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে। অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভোলার গ্যাস দেশের মূল ভূখণ্ডে ব্যবহারের উপযোগী করতে সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনতে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে বলেও সংসদকে জানান তিনি।

দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর জন্য মোট আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে তিনটি প্রশ্ন এবং সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনের শুরুতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব বিষয় উঠে আসে।