- নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনেও একই ধরনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পুলিশ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবে বলে কমিশনকে আশ্বস্ত করেছে।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থার সংকটও অনেকটা কমেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই আস্থা ধরে রাখাই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হলেই শিগগির তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, এ কর্মসূচিতে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসার সদস্যদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ও অনিয়ম ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। ভোটকেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হবে। এর মাধ্যমে পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে সিইসি বলেন, প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিবেচনা হবে আইনগত যোগ্যতা। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে কমিশন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী হবে। আইনগতভাবে যারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য, তারাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। দলীয় পরিচয় এখানে মুখ্য বিষয় নয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।
পুলিশের মনোবল প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, পুলিশের মনোবল আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বাহিনীর বর্তমান অবস্থার মূল্যায়ন জনগণ ও সাংবাদিকরাই করবেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
