- ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো জোটের হয়ে না লড়ে নিজেদের দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলের দুই শীর্ষ নেতাকে প্রার্থী করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে দলটি।
এনসিপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরে দেওয়া হবে।
প্রার্থী বদল এনসিপির
এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে দলের রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদকে এবং ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সমীক্ষার পর প্রার্থী বাছাই
এনসিপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলীয়ভাবে কিছু সমীক্ষা চালানো হয়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
আসিফ মাহমুদ নিজেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ক্ষেত্রে ঢাকা-৮ আসনে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় তাঁর একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে এবং দলীয় সমীক্ষাতেও সেটির প্রতিফলন পাওয়া গেছে বলে এনসিপির সূত্র জানিয়েছে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে মেয়র পদে প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। এ কারণেই নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
পাঁচ সিটিতে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি
ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল এনসিপি।
কুমিল্লায় জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহীতে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেটে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে প্রার্থী করার কথা জানানো হয়েছিল।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন এবং দক্ষিণে তাঁর নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার পর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হবে।
আসিফ মাহমুদও জানান, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি।
স্থানীয় নির্বাচনে জোট নয়, রাজনৈতিক ঐক্য থাকবে
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের শরিকদের সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এনসিপি ও জামায়াতের সূত্রগুলোর ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়া বাস্তবে জটিল। অতীতেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত প্রার্থী দেওয়ার নজির খুব বেশি নেই। তাই রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রেখেই স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও রাজনৈতিকভাবে ১১-দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে তারা যৌথ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। এর মধ্যে আরও কয়েকটি লংমার্চ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কর্মসূচিও রয়েছে।
শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়েও সমন্বয় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
এনসিপির অন্যান্য শরিকদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে তারা আলাদাভাবে ভোট করবে। তাদের নির্বাচনী প্রচারের মূল লক্ষ্য হবে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
