র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল পাসের সুপারিশ, ৮ ধারায় জামায়াতের আপত্তি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের প্রস্তাবিত বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তবে বিলটির আটটি ধারায় ভিন্নমত জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা। বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত না করে বিলটি দ্রুত পাস না করার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার থাকলেও প্রস্তাবিত এসআরবির কাঠামোতে আগের বাহিনীর অনেক বৈশিষ্ট্যই রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য প্রস্তাবিত কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব হিসেবে বাহিনীর কর্মকর্তাদের রাখার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

তার মতে, এভাবে তদন্ত পরিচালিত হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাই অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে সভাপতি করে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এসআরবিকে গ্রেপ্তার, তল্লাশি, জব্দ ও অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। এসব ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আদালত ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর নজরদারি থাকা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে দলটি।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলায় এসআরবির কার্যক্রমের মাসিক কার্যবিবরণী তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে আটক ব্যক্তির নাম, আটকের স্থান ও কারণ এবং থানায় হস্তান্তরের সময় উল্লেখ করার পাশাপাশি প্রতিবেদনটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ নিয়েও আপত্তি তুলেছে বিরোধী দল। এসব স্থাপনার অবস্থান নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দপ্তর, ক্যাম্প ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের ঠিকানা সরকারি গেজেটে প্রকাশের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তরের সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ এবং বাহিনীর সদস্যরা বেআইনি কোনো আদেশ পালন করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।

কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতীতের বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহারের বিষয়ও উঠে আসে। তবে কোনো বাহিনীর অপব্যবহারের কারণে পুরো বাহিনী বিলুপ্ত না করে দক্ষ জনবল ও বিদ্যমান সরঞ্জামকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি নতুন বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও কমিটির সদস্যরা গুরুত্ব দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে চার কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।