- নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে গ্রাহকদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা প্রায় ৫৩১ কোটি টাকার মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিসের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সংসদে শেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য খাতে আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় তিনি ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং, আলেশা মার্ট এবং সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রাহকদের কত টাকা আটকে রয়েছে, এর মধ্যে কত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি বা ডিবিআইডি নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০২টি প্রতিষ্ঠানকে ডিবিআইডি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং ও আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে গ্রাহকদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, ই-কমার্সে লেনদেনকে নিরাপদ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ ‘মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং ও এসক্রো সেবা নীতিমালা’ প্রণয়ন করেছে।
এস্ক্রো ব্যবস্থায় গ্রাহকের পরিশোধ করা অর্থ সরাসরি বিক্রেতার কাছে চলে যায় না। গ্রাহক পণ্য বা সেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর সংশ্লিষ্ট অর্থ বিক্রেতার কাছে ছাড় করা হয়।
ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পৃথক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা বন্ধে এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে ‘ডিজিটাল কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তবে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করতে সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি জানান, আপাতত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সংশোধনের মাধ্যমে অধিদপ্তরের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম শুধু প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ডিজিটাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও ঝুঁকি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে কি না, তা জানতে চান।
তিনি অস্বাভাবিক লেনদেন, অতিরিক্ত অভিযোগ কিংবা বড় অঙ্কের দায় তৈরি হলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে একটি সমন্বিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, দেশে ই-কমার্সের শুরুর দিকে আইন ও তদারকির ব্যবস্থায় বেশ কিছু ফাঁক ছিল। নতুন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে ডিজিটাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের যথাযথ সেবা দিচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
সংসদ সদস্যের দেওয়া প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত ডিজিটাল কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
