- এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ দশকের সর্বনিম্ন হার, বাড়ছে অসমাপ্ত অবকাঠামোর বোঝা
নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের বদলে আগে চলমান ও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলো শেষ করার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, প্রশাসনিক ধীরগতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং বিভিন্ন বাস্তবায়ন জটিলতায় সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নেও।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি টাকা। এ বাস্তবায়ন হার অন্তত গত পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন বাজেটে অর্থ বরাদ্দ থাকলেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। কোনো প্রকল্প সময়মতো শেষ না হলে কিংবা প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো তৈরি না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও জনগণ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ নতুন প্রকল্প বাড়ানো নয়, বরং চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ করে সেগুলোকে কার্যকর করা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় কমে যাওয়া এবং বাস্তবায়নের গতি ধীর হওয়ার বিষয়টি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, ওই অর্থবছরে শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সময় দায়িত্ব পালন করেছে। সরকার পরিবর্তনের সময় প্রশাসনিক কার্যক্রম, নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ধীর হয়ে যায়। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে পূর্ণ গতিতে ফিরিয়ে আনতেও সময় প্রয়োজন হয়।
ড. মুজেরি আরও বলেন, একই সময়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতিও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে। সরকারি ব্যয় স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনা গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারও ত্বরান্বিত হবে। সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা জোরদার করা।
সেতু তৈরি হলেও মিলছে না সুফল
দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন বহু প্রকল্প রয়েছে, যেখানে মূল স্থাপনা তৈরি হলেও সেটিকে ব্যবহারযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সহায়ক কাজ শেষ হয়নি। ফলে প্রকল্পের পেছনে অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছেন না স্থানীয় মানুষ।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কাটা গঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৮৩ মিটার সেতুটি এর একটি উদাহরণ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নেওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০২২ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয় এবং প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালের জুনে শেষ করার কথা ছিল।
পরে সময় বাড়ানো হলেও ২০২৬ সালের মার্চে বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফলে সেতুটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য, দুই এলাকার যোগাযোগ সহজ করা, পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
রাজবাড়ীর পাংশায় গড়াই নদীর ওপর ৬৫০ মিটার সেতুর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। ২০২০ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। স্প্যান স্থাপন এবং সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় প্রকল্পটির অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। এর ব্যয় প্রায় ৬৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
কুষ্টিয়ার কুমার নদীর ওপর ৮১ মিটার সেতু নির্মাণের প্রকল্পটিও দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরে ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া কাজ ২০২২ সালের মার্চে শেষ করার কথা ছিল। দুই দফা সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষক ও পরিবহন ব্যবহারকারীদের ওপর। বেড়েছে যোগাযোগের দুর্ভোগ ও পরিবহন ব্যয়।
এসব ঘটনা দেখিয়ে দেয়, একটি প্রকল্পের শুধু মূল অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেই সেটিকে সফল বলা যায় না। সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, ড্রেনেজ কিংবা অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো সময়মতো প্রস্তুত না হলে মূল বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।
দীর্ঘসূত্রতায় আটকে কালুরঘাট-চাক্তাই প্রকল্প
চট্টগ্রামের কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক ও বাঁধ প্রকল্পও দীর্ঘসূত্রতার বড় উদাহরণ। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তিন বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৬ সালেও প্রকল্পটির কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে মেয়াদ চারবার বাড়ানো হয়েছে।
জমি অধিগ্রহণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নের নানা জটিলতায় প্রকল্পটি বারবার পিছিয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল শুধু একটি সড়ক নির্মাণ নয়। বিকল্প চার লেনের সড়ক তৈরি, যানজট কমানো এবং জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বাঁধ নির্মাণও এর উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল।
দীর্ঘ বিলম্বের কারণে যে সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, তার একটি অংশ এখনো রয়ে গেছে। ফলে অর্থ ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রকল্পের অগ্রগতি নয়, ব্যবহারযোগ্যতাই মূল
উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাই শুধু কত শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, সেটিকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কোনো প্রকল্পের ৭০ বা ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও সেটি যদি জনগণের ব্যবহারের উপযোগী না হয়, তাহলে সেই অগ্রগতির বাস্তব মূল্য সীমিত।
একটি সেতুর ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও শেষ ১০ শতাংশ সংযোগ সড়ক না থাকায় যান চলাচল শুরু করা না গেলে প্রকল্পটি কার্যকর অবকাঠামোতে পরিণত হয় না। একইভাবে হাসপাতালের ভবন নির্মাণ শেষ হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ, গ্যাস বা অন্যান্য সুবিধা না থাকলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় তার অবদান কতটা, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
অনুমোদনের আগেই তৈরি হয় অনেক জটিলতা
প্রকল্প বিলম্বের ক্ষেত্রে সাধারণত ঠিকাদারের ধীরগতির কাজ, নিম্নমানের নির্মাণ কিংবা চুক্তির শর্ত ভঙ্গের বিষয় সামনে আসে। এসব সমস্যা থাকলেও সব ক্ষেত্রে জটিলতার সূত্রপাত ঠিকাদার পর্যায়ে নয়। অনেক সময় প্রকল্প অনুমোদনের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি থাকে।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় বাজেট শৃঙ্খলার দুর্বলতা, দীর্ঘ বাস্তবায়ন সময় এবং ব্যয় বৃদ্ধিকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পে গড়ে অন্তত প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রায় তিন বছর পর্যন্ত বিলম্বের ঘটনা ঘটে।
প্রকল্প গ্রহণের আগে পর্যাপ্ত সম্ভাব্যতা যাচাই না করা, লক্ষ্য পরিষ্কার না থাকা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত যথাযথভাবে না নেওয়ার বিষয়টিও এতে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প অনুমোদনের আগে জমি অধিগ্রহণের বিষয় নিষ্পত্তি, পরিবেশগত ছাড়পত্র, নকশা চূড়ান্তকরণ এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলো প্রস্তুত থাকা জরুরি। এসব কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই প্রকল্প অনুমোদন করলে বাস্তবায়নের সময় নানা বাধা তৈরি হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নে ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সময় বাড়লে বাড়ে ব্যয়ের চাপ
প্রকল্পের মেয়াদ একবার বাড়ানো হলে শুধু কাজ শেষ হওয়ার সময় পিছিয়ে যায় না, এর সঙ্গে বাড়ে প্রকল্পের ব্যয়ও। নির্মাণসামগ্রীর মূল্য, শ্রমিকের মজুরি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ার কারণে একই কাজ শেষ করতে পরে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়।
২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি সরকারি টাস্কফোর্স-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আটটি বড় প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় এবং পরবর্তী সংশোধিত ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধানের তথ্য উঠে আসে।
পদ্মা সেতু ও রেল সেতু সংযোগ, যমুনা রেল সেতু, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেল-৬, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এবং বিআরটি-৩সহ আট প্রকল্পে প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় মোট ব্যয় ৬৮ শতাংশ বা ৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। দুর্বল সম্ভাব্যতা যাচাই, দুর্নীতি এবং বাস্তবায়নে বিলম্বকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত প্রকল্পে ছড়িয়ে পড়ছে সক্ষমতা
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সংশোধিত এডিপিতে ১ হাজার ৪০০টির বেশি প্রকল্প ছিল। বিপুলসংখ্যক প্রকল্পকে বাজেট শৃঙ্খলার দুর্বলতার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে অদক্ষ ও টেকসই নয় এমন প্রকল্পের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর প্রশাসনিক ও কারিগরি সক্ষমতা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কোনো একটি প্রকল্পেই প্রয়োজনীয় নজরদারি ও মনোযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বরাদ্দ পাওয়ার পরও বাস্তবায়নের গতি কম থাকায় অর্থবছরের শেষে বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয় না। পরের বছর একই প্রকল্প আবার এডিপিতে স্থান পায়। এভাবে বছরের পর বছর প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়তে থাকে এবং অসমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা জমতে থাকে।
‘কত প্রকল্প’ নয়, প্রশ্ন ‘কতটা কার্যকর’
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানোর চেয়ে ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। একটি প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে বা তার বড় অংশের নির্মাণ শেষ হয়েছে, এটিকে সাফল্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা না করে জনগণ প্রকৃতপক্ষে কতটা সুবিধা পাচ্ছে, তা মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় এখন মৌলিক পরিবর্তন আনা দরকার। কতগুলো প্রকল্প নেওয়া হলো, তার বদলে কতগুলো প্রকল্প কার্যকরভাবে শেষ হলো, সেটিই বিবেচনার বিষয় হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, নতুন প্রকল্পের প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। তবে তার আগে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো শেষ করা জরুরি। যে প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছায় না, কাগজে তার আকার যত বড়ই হোক, সেটিকে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রকৃত উন্নয়ন তখনই নিশ্চিত হবে, যখন বরাদ্দ করা অর্থ সময়মতো কার্যকর অবকাঠামোতে রূপ নেবে, সেই অবকাঠামো জনগণের ব্যবহারযোগ্য হবে এবং এর ফলে অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় পরিমাপযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
