- নিজস্ব প্রতিবেদক
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা ও সরকারি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দিয়ে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন আসনের ১১ সংসদ সদস্য এ রিট দায়ের করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, ২০০১ সালেও একই ধরনের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিটের পর হাইকোর্ট বিভাগ দায়িত্ব বণ্টনের ওই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন।
তিনি বলেন, সংবিধান, রুলস অব বিজনেস এবং উচ্চ আদালতের আগের রায়ের আলোকে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত সরকারের আইনগত এখতিয়ারের বাইরে এবং বেআইনি।
রিটকারীদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা-১ আসনের ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, ঢাকা-১৪ আসনের মীর আহমেদ বিন কাশেম, রংপুর-৫ আসনের মো. গোলাম রব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মো. মাসুদ পারভেজ, যশোর-১ আসনের মুহাম্মদ আজিজুর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, পটুয়াখালী-২ আসনের শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম, গাজীপুর-৪ আসনের সালাউদ্দিন এবং চট্টগ্রামের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
এর আগে দেশের ৬৪ জেলার জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব দেয় সরকার। এসব দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের ভাষ্য, উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমের জন্য সরকার জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে সমষ্টিগতভাবে দায়বদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূলকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর কর্তৃত্বে সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওই বিধান থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে বা তা মঞ্জুর করতে পারেন।
এতে আরও বলা হয়, বিষয়টি মন্ত্রিসভায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন মামলা নম্বর ৩৫১২/২০০৩-এর রায়ের মর্ম অনুযায়ী, এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণ করেই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এখন ১১ সংসদ সদস্যের দায়ের করা রিটের মাধ্যমে সরকারের এই জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলো।
