- নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক বিনা খরচে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দেশটি।
রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মীর শাহে আলম বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে পলিমার মডিফাইড বিটুমিন বা রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারে কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বৃষ্টিপ্রবণ দেশটিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে সড়কের কার্পেটিং তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
তিনি জানান, বিটুমিনের সঙ্গে রাবার মিশিয়ে সড়ক নির্মাণের প্রযুক্তি বাংলাদেশেও পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০৫ সালে বগুড়া সদরে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে এই প্রযুক্তির পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যা এখনো ভালো অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে দেশের সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যা কমাতে পর্যায়ক্রমে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে মোট সড়কের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রযুক্তির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তার মতে, বিটুমিনের সঙ্গে রাবার ব্যবহার করা হলে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময়ও সড়কের স্থায়িত্ব বাড়বে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবে।
বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।
তিনি জানান, ঢাকার ভেতরে চলাচলের জন্য দুই ও চার আসনের ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। তবে ছয় আসনের রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ পাবে না।
ই-রিকশা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের অগ্রগতি সম্পর্কে মীর শাহে আলম বলেন, নীতিমালার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি জারি করা হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ প্রযুক্তি এবং ঢাকার ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
