করদাতা-কর কর্মকর্তার সরাসরি যোগাযোগ বন্ধে আসছে নতুন ব্যবস্থা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

করদাতাদের হয়রানি ও করব্যবস্থায় অনিয়ম কমাতে করদাতা এবং কর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন ব্যবস্থায় করদাতারা ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল, নিরীক্ষার জবাব দেওয়া এবং করসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিব।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে, যেখানে করদাতার সঙ্গে কর কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হবে না। করদাতা নিজের বাসা থেকেই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। কোনো নিরীক্ষা হলে তার জবাবও অনলাইনে দেওয়া যাবে। রিটার্নে কোনো ভুল থাকলে সেটির ব্যাখ্যাও অনলাইনে দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের হয়রানি এবং অনিয়মের শিকার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। কর প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে এনবিআর এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে।

আহসান হাবিব বলেন, চলতি বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এই বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি কর আইনজীবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দেশের বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখনো করজালের বাইরে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন করদাতা শনাক্ত করে তাদের করজালের আওতায় আনার পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

রাষ্ট্র জনগণের দেওয়া করের অর্থে বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সড়ক, সেতু, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে রাজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রাপ্য কর যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় নয়। প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব সততা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করলেই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়।

ব্যবসায়ী ও করদাতাদের উদ্দেশে ঘুষ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আহসান হাবিব বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিকে ঘুষ দেওয়া উচিত নয়। করব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে করদাতা, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কর আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আহরণ বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের প্রায় ৪২ হাজার কর আইনজীবী সমন্বিতভাবে কাজ করলে রাজস্ব আয় ১০ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব।

করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনতে কর আইনজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে করদাতাদের হয়রানি বন্ধ, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাঁদের দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরামের (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা পূর্ণ বিজয় পেয়েছেন। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান (দুলাল)। সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছেন এ কে এম শহীদুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. আবুল কালাম মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান।

নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয় রাজস্ব আহরণে কর আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে তাঁদের কাজের পরিবেশ আরও উন্নত করা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৪২ জন কর আইনজীবীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র ১০ বাই ১২ ফুটের একটি কক্ষে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে।

কর আইনজীবীদের জন্য পৃথক একটি কক্ষ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জায়গা পেলে আইনজীবীদের কাজের পরিবেশ উন্নত হবে এবং পেশাগত কার্যক্রমও আরও স্বাচ্ছন্দ্যে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর আইনজীবী এবং ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।