চিকিৎসা বিজ্ঞানের আমূল পরিবর্তনের ফলে এখন রোগ নির্ণয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বহু দেশেই ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশেও এ ধরণের সেবা চালু করতে বন্ধু রাষ্ট্র জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)।
শনিবার ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অফ পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন’-এর ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিপাকতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহজনিত রোগ আইবিডি বা ‘ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ’ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগের দিনের একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে অধ্যাপক আজাদ বলেন, “সেমিনারটি ছিল প্যাথলজি সেমিনার, ইন্টার্ন প্যাথলজিস্টদের জন্য, যা আয়োজন করা হয়েছিল রয়্যাল কলেজ অব প্যাথলজিস্টের সহযোগিতায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রয়্যাল প্যাথলজিস্টদের সভাপতি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কীভাবে আমরা এমন একটি ‘টুল’ তৈরি করতে পারি যাতে আইবিডি আর যক্ষ্মার মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হয়, কারণ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে এটি খুব কঠিন।”
এই প্রসঙ্গে জাপানের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “প্রায়ই আমরা প্রথমে যক্ষ্মার চিকিৎসা শুরু করি, পরে বুঝতে পারি এটি আইবিডি। আজকের সেমিনারে দেখে বুঝলাম, জাপানিরা এই বিষয়ে অনেক এগিয়ে। তাই আমি অনুরোধ করব, তারা যেন এই বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন।”
তিনি জানান, এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। তিনি বিএমইউকে রোগ নির্ণয়ে এআই টুল ব্যবহারে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সেমিনারে উপস্থিত জাপানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে অধ্যাপক আজাদ বলেন, “আমি অনুরোধ করব, আপনারা যদি এআই বা অন্য প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের একটি কন্ট্রোল বিভাগ গড়ে তুলতে সাহায্য করেন, তাহলে এটি আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। আমরা বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই এ নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, জাপান এই বিষয়ে ১০ থেকে ১৫ বছর আগে থেকেই গবেষণা চালাচ্ছে এবং এখন তারা বিশ্বব্যাপী শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। তাই বিএমইউর শিক্ষকদেরও এ বিষয়ে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এদিনের সেমিনারে শিশুদের গ্যাস্ট্রিক, লিভার রোগ ও পুষ্টি সম্পর্কিত সমস্যার প্রতিকার, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে থাকছে বৈজ্ঞানিক সেমিনারসহ নানা আয়োজন।
সম্মেলনে শিশু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন বিষয়ের ছয় শতাধিক শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম বজলুল করিম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাহরীন আখতার এবং শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান।
