ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ নির্বাচনে তিনি কোনো ‘হুমকি’ দেখছেন না।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি জানান, রাজধানীতে মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ঝুঁকি ও ভোটারের সংখ্যা বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রে চারজন করে, ৫১৭টি ‘সাধারণ’ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া, কামরাঙ্গীরচর, বাড্ডার সাঁতারকুল ও বেরাইদ এলাকার যাতায়াত জটিলতার কারণে ৩৭টি কেন্দ্রকে ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’ চিহ্নিত করে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে ৫১০টি মোবাইল টিম ও ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম সক্রিয় থাকবে। এছাড়া আটটি বিভাগে আটটি কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন ভ্যান ও আর্মড পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি, জাল ভোটরোধ, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি নগরবাসীকে নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান এবং অতীতের সব বিতর্ক ও কালিমা কাটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে কোনো হুমকি আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি জবাব দেন, “না, কোনো হুমকি নেই। নির্বাচন সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত হবে।”
