অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খানসহ তার পরিবারের ১৬ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে ১, ২, ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে তাদেরকে দুদকের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তলবি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সামিট গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
· সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান
· তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খান
· কন্যা আয়েশা আজিজ
· পরিবারের অন্যান্য সদস্য ফরিদ খান, সানাদিনা খান, সালমান খান, জাফর উম্মিদ খান, লতিফ খান, ফয়সাল করিম খান, ফারহান করিম, ফাদিয়াহ খান, ফারহানা খান এবং আজহারুল হক।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগকৃত পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ নিম্নরূপ:
· মোহাম্মদ আজিজ খানের বিরুদ্ধে ২২৬ কোটি টাকা
· আয়েশা আজিজের বিরুদ্ধে ২১৯ কোটি টাকা
· লতিফ খানের বিরুদ্ধে ৬৫ কোটি টাকা
· ফরিদ খানের বিরুদ্ধে ৭০ কোটি টাকা
· জাফর উম্মিদ খানের বিরুদ্ধে ৫২ কোটি টাকা
· আঞ্জুমান আজিজ খানের বিরুদ্ধে ৩২ কোটি টাকা
· ফাদিয়াহ খান, সানাদিনা খান ও সালমান খানের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি টাকা
· ফয়সাল করিম খানের বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি টাকা
· ফারহানা খানের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা
· ফারহান করিমের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা
· আজহারুল হকের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা
দুদকের উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি যৌথ দল এই অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ১৪ ডিসেম্বর আজিজ খান, তার স্ত্রী ও কন্যাসহ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৭১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পৃথক পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আজিজ খানের নামে ৩৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ১০৯ টাকা, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খানের নামে প্রায় ৯২ কোটি ৬২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯ টাকা এবং কন্যা আয়েশা আজিজের নামে প্রায় ২৮৭ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ৯৬৪ টাকার অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। আয়কর নথিতে প্রদর্শিত সম্পদের মূল্য প্রকৃত সম্পদের তুলনায় কম বলে দাবি করা হয়েছে এবং এই সম্পদের সঙ্গে তাদের আয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
তলবের শর্ত:
দুদকের পাঠানো নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে।” একই সঙ্গে সামিট গ্রুপের শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্রও দুদকের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চব্বিশের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর থেকে আজিজ খানের দেশে আসার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্বধারী আজিজ খান দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই বসবাস করছেন।
