- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে অভিযুক্তদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য তাজুল ইসলামের
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শক্তিগুলোর দেশে ফেরার ঘোষণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সমর্থকদের সক্রিয়তাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল না।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ নিয়ে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
‘এতটা দুঃসাহস হওয়ার কথা ছিল না’
তাজুল ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিরা এখন প্রকাশ্যে দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করছেন এবং তাদের সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তাও বেড়েছে।
তার ভাষায়, “আজকে তারা তারিখ দিয়ে বলে ফেরত আসবে। এই দুঃসাহস তাদের হওয়ার কথা ছিল না। এটি সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।”
বিচার বিলম্বিত হলে বাড়বে আত্মবিশ্বাস
সাবেক এই চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অভ্যুত্থানের পর প্রথম দেড় বছরে এমন পরিস্থিতি দেখা না গেলেও গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য বিচার জরুরি
তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধের বিচার শুধু দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচার সম্পন্ন না হলে সমাজে ক্ষোভ ও অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে সংকটময় সময়ে মানুষ রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণাও হারাতে পারে।
উত্তরণকালীন ন্যায়বিচারের পাঁচ দিক
অনুষ্ঠানে তিনি উত্তরণকালীন ন্যায়বিচারের (ট্রানজিশনাল জাস্টিস) পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো অপরাধের বিচার, সত্য উদ্ঘাটন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণ।
