- পরিবার গড়তে আগ্রহী অধিকাংশ তরুণ-তরুণী; তবে আর্থিক নিরাপত্তা, স্থায়ী চাকরি ও আবাসন সংকটকে মা-বাবা হওয়ার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছেন তারা
পরিবার গঠনের স্বপ্ন এখনো অটুট
পরিবার গঠন ও সন্তান লালন-পালনের ইচ্ছা এখনো বিশ্বের অধিকাংশ তরুণ-তরুণীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা, স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং অনুকূল সামাজিক পরিবেশকে অপরিহার্য বলে মনে করছেন তারা। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এক বৈশ্বিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে যা উঠে এসেছে
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক ফিউচার সার্ভে’তে বাংলাদেশসহ ৭৩টি দেশের প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার তরুণ-তরুণীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জরিপে দেখা যায়, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি তরুণ-তরুণী ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এবং বিয়ে করে পরিবার গঠন করতে চান। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জন মনে করেন, সন্তান সংসারে যে আনন্দ নিয়ে আসে, সেটিই মা-বাবা হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
মা-বাবা হওয়ার প্রধান শর্ত
জরিপ অনুযায়ী, ৮৮ শতাংশ তরুণ-তরুণী মনে করেন, মা-বাবা হওয়ার আগে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ৮৭ শতাংশ স্থায়ী কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়া অর্ধেকের বেশি উত্তরদাতা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আবাসন সংকটকে পরিবার গঠনের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বাংলাদেশের জনমিতিক সম্ভাবনা
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৬ সালে এ বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময়টিই বাংলাদেশের জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
বড় চ্যালেঞ্জ বাল্যবিবাহ ও কিশোরী মাতৃত্ব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাবনার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব এবং নারীর প্রতি সহিংসতা। দেশে এখনো প্রায় ৪৭ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়ে যায়। এছাড়া ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি এক হাজার নারীর মধ্যে ৯২ জন কিশোরী মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।
জেন্ডারভিত্তিক ও অনলাইন সহিংসতার ঝুঁকি
নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ-২০২৪ অনুযায়ী, কিশোরী ও তরুণীরাই জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার সবচেয়ে বেশি শিকার। পাশাপাশি প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতাও দ্রুত বাড়ছে, যা তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অবৈতনিক কাজের ভার নারীদের ওপর
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নারীরা প্রতিবছর প্রায় ৫ দশমিক ১৯ ট্রিলিয়ন টাকা সমমূল্যের অবৈতনিক গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজ করেন, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশের সমান। ফলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নারীরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন।
কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় পিছিয়ে তরুণীরা
বর্তমানে দেশের ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজন তরুণের একজন শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। তরুণীদের ক্ষেত্রে এ হার আরও বেশি।
ইউএনএফপিএর সুপারিশ
ইউএনএফপিএর মতে, জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগাতে বাল্যবিবাহ রোধ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং তরুণ-তরুণীদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি জরুরি। একই সঙ্গে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কার্যকর নীতির বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
