স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ২৭ আগস্ট প্রকাশ হবে ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ আগস্ট সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়ার সই করা এক চিঠি জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুসরণ করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি ও আপত্তি গ্রহণ করা হবে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২৩ আগস্টের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২৭ আগস্ট সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণের কমপক্ষে ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকার হার্ড কপি ও সফট কপি সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন সহায়তা-৩ শাখায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্থায়ী অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে ইসি। যেখানে স্থায়ী ভবনে ভোটকক্ষ স্থাপনের সুযোগ রয়েছে, সেখানে অস্থায়ী ভোটকক্ষ নির্মাণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য একটি এবং প্রতি ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে একটি ভোটকক্ষের ভেতরে একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপনের সুযোগও থাকবে।

এর আগে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দের বিধান ছিল। নতুন নীতিমালায় ভোটকক্ষপ্রতি ভোটারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে এবং ভোটার এলাকার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পরই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র ছিল। তবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪৫ হাজারেরও বেশি হতে পারে, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় দুই থেকে তিন হাজার বেশি।