নির্বাচন সংস্কারে অংশীজনদের সঙ্গে ইসির সংলাপ

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতের নির্বাচন আরও সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে অংশীজনদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংলাপ থেকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানিয়েছে কমিশন।

বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংলাপের উদ্বোধন করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে আগামী নির্বাচনগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে নির্বাচন ব্যবস্থা আরও অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর হয়।

তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে কমিশন এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচনি বিধিবিধান উন্নয়নে অংশীজনদের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ইইউর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে ১৯টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। কর্মশালা থেকে আরও নতুন সুপারিশ আসবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি সেগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইপিডির প্রতিনিধি মাইকেল লিডার বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুপারিশ ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনের পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

দুই দিনব্যাপী এ সংলাপে স্থানীয় পর্যবেক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন অধিবেশনে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।

শেষে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সুপারিশ মূল্যায়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কমিশন কাজ করে যাবে।