জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় প্রত্যাখ্যান করে তাঁর মুক্তির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।
স্থানীয় সময় বুধবার দুই দেশে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্র জাসদের উদ্যোগে ‘প্রহসনের বিচার মানি না’ শীর্ষক ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম জিকো।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ফকির ইলিয়াস, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সহসভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ, দরুদ মিয়া রনেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসিব মামুন, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, মহিউদ্দিন সবুজ, আবুল ফজল লিটন ও সাদিকুর রহমান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসনের বিচার’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে দেশের মানুষ আবারও ঐক্যবদ্ধ হবে।
একই দিনে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সর্বইউরোপ ও যুক্তরাজ্য জাসদের উদ্যোগে আরেকটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাজ্য জাসদের সভাপতি মজিবুল হক মনিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান আহমদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সমাবেশে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাসদ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করছে। তাঁদের দাবি, যেখানে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হওয়ার কথা, সেখানে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়ে উল্টো মুক্তিযোদ্ধাদের সাজা দেওয়া হচ্ছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সর্বইউরোপ জাসদের সভাপতি মতিউর রহমান মতিন, মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌছ সুলতান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হরমুজ আলী, মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান, লোকমান হোসেন, মতিয়ার চৌধুরী, ফরাজী আজমল হোসেন, আনসার আহমেদ উল্লাহ এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান দমন করতে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
