বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। দেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড তো দূরের কথা, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি দেশের মানুষও দেশপ্রেমকে শক্তি হিসেবে নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে।
শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ সবার, তাই দেশ রক্ষার দায়িত্বও সবার। সীমান্তে প্রয়োজন হলে বিজিবির হাতে অস্ত্র থাকবে, আর সাধারণ মানুষের বুকে থাকবে দেশপ্রেমের শক্তি। অতীতেও দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর কারণেই অনেক অপচেষ্টা সফল হয়নি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সংসদে আলোচনার জন্য তাঁর দল নোটিশ জমা দিলেও এখনো আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, সীমান্তসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সংসদে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা উচিত। এতে বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বার্তা পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, সংসদের ৩৪৮ জন সদস্যই দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। তাই জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ থেকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রকাশ করা প্রয়োজন।
প্রতিবেশী দেশের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্ধুত্বের সম্পর্ক কখনো ক্ষতির কারণ হতে পারে না। প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে কেউ যদি সেই দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে দেশের জনগণ নিজেদের দেশ রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অনেক বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আইন করলেও জামায়াতে ইসলামী শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, সমাজ থেকে মাদক সম্পূর্ণ নির্মূলের পক্ষে। তাঁর ভাষায়, মাদককে নিয়ন্ত্রণ করে রাখা নয়, এর শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদে একজন সদস্য দাবি করেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় মাদকের চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা দিয়ে আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং দায়িত্ব পালনের শুরু হওয়া উচিত নিজ নিজ এলাকা থেকেই।
বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল তা সমর্থন করবে। আবার সরকারের ভুল-ত্রুটি গঠনমূলকভাবে তুলে ধরবে। তবে বিরোধী দলের যৌক্তিক বক্তব্য উপেক্ষা করা হলে তারা কঠোর অবস্থান নেবে।
তিনি বলেন, অন্ধভাবে বিরোধিতা করা হবে না। কিন্তু জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিরোধী দল শক্ত অবস্থান গ্রহণ করবে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, বছরের অধিকাংশ সময় উন্নয়ন কার্যক্রম ধীরগতিতে চলে, আর শেষ সময়ে হঠাৎ তা দ্রুতগতিতে পরিচালিত হয়, যা কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মতবিনিময় সভায় সীমান্ত পরিস্থিতি, নেত্রকোনার উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফাসহ জেলা জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি জেলা পাবলিক হলে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলনে অংশ নিয়ে দলীয় কার্যক্রম, সাংগঠনিক শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
