শতভাগ নিবন্ধনে হাসপাতালভিত্তিক ব্যবস্থার সুপারিশ

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর ন্যস্ত করা হলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের সরকারি লক্ষ্য অর্জন অনেক সহজ হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধনের পাশাপাশি নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে হবে।

দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার বাড়াতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ সংশোধন করে এ দায়িত্ব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অর্পণ করা হলে নিবন্ধন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হবে এবং সরকারের নির্ধারিত ২০৩০ সালের শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন ত্বরান্বিত হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, ভোটাধিকারসহ নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অপরিহার্য। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, উন্নয়ন কার্যক্রম, সুশাসন এবং বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রেও নির্ভুল নিবন্ধন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় কম। অথচ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে উভয় ক্ষেত্রেই শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য নিবন্ধনের দায়িত্ব মূলত পরিবারের ওপর বর্তায়। তবে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে জন্ম নেওয়া দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুকে সহজেই নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেক দেশ ইতোমধ্যে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন করেছে।

জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু আইন সংশোধন নয়, কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জনবল সংকট দূর করা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।

ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ-এর হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার দুর্বলতা, অনিয়ম ও জনভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়মিত গণমাধ্যমে তুলে ধরলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সহজ হবে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। এছাড়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় বিষয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।