গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত করা হয়েছে এবং এতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও ১১ দল দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। তারা ফল প্রত্যাখ্যান করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়নি। তার ভাষ্য, বিদ্রোহ বা সংঘাতের পথ বেছে নিলে দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা কেউ বলতে পারত না।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে পরাজিত করা হয়েছে এবং নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি স্বীকারও করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, দলটি জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। জাতীয় সংসদে দেওয়া কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেসব বক্তব্য ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে এবং জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান পরিবর্তন লক্ষ্য করছে।
গণভোটের চারটি প্রশ্ন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, চারটি প্রশ্ন জনগণ বুঝতে না পারলে ৩১ দফাও বোঝার কথা নয়। জনগণকে অবমূল্যায়ন করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজন হলে তা আরও জোরদার করা হবে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জনগণ আরও সক্রিয় হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও এখন তাদের বক্তব্যে সেই সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায় না। তবে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে বেশি সময় লাগবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১১ দল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিপক্ষ নয়; বরং দেশের কল্যাণেই তারা এসব দাবি জানাচ্ছে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
