নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতায় ৬০৩ আহত, ৫ নিহত: আইজিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, গত ১১ ডিসেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে নির্বাচন-সম্পর্কিত ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মোট ৬০৩ জন আহত হয়েছেন এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর গণভবন রোডে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এ তথ্য তুলে ধরেন।

নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি এবং শেরপুরের জামায়াত নেতা রেজাউল করিম। এছাড়াও, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য কিছু নিহতের ঘটনা নির্বাচনকেন্দ্রিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাণহানির ঘটনা প্রসঙ্গে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “একটি প্রাণহানির ঘটনাও দুর্ভাগ্যজনক। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, একটি মৃত্যুও যেন না হয়। কিন্তু যুগে যুগে এমন ঘটনা ঘটে।”

নির্বাচনী নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি:

সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

· পুলিশ মোতায়েন: এ নির্বাচনে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।
· অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে।
· প্রযুক্তির ব্যবহার: ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ বডি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করবে।
· তিন স্তরের নিরাপত্তা: এবারের নির্বাচনে তিন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে থানা থেকে ব্যক্তিগত অস্ত্র লুট হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে আইজিপি বলেন, “যেকোনো অস্ত্রই হুমকি। বিভিন্নভাবে দেশে অস্ত্র প্রবেশ করে। সেজন্য তা মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

তিনি নিশ্চিত করেন যে, ভোটগ্রহণ যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়, সে লক্ষ্যে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।