গুম হওয়া কোনো ব্যক্তি পাঁচ বছরের মধ্যে জীবিত ফিরে না এলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে—এমন বিধান যুক্ত করে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইবুনালের’ জন্য প্রয়োজনীয় পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারীও ট্রাইবুনালে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পাবেন। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন।
এ বৈঠকে বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশের খসড়াতেও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকার বলছে, বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল বিশ্বের বিরল ও অনন্য ইকোসিস্টেমের একটি। তবে নদী ও নদীপথে বাধা সৃষ্টি করে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাবে এ ইকোসিস্টেম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জলাশয় রক্ষায় বিদ্যমান আইনি কাঠামোও অপ্রতুল।
নতুন অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করা হবে। হাওর ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংরক্ষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকা ঘোষণা করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি এলাকায় নিষিদ্ধ কার্যক্রমের তালিকা, এসব কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং অপরাধের জন্য দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণের বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য কর্তৃপক্ষ, দপ্তর বা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে বিধি, প্রবিধান ও নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাংলাদেশের একটি স্থায়ী মিশন রয়েছে। বার্নে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের দূতাবাস থাকলেও বাংলাদেশের দূতাবাস এতদিন ছিল না। ফলে জাতিসংঘ–সংক্রান্ত কার্যক্রমসহ দূতাবাসের দায়িত্ব জেনেভার স্থায়ী মিশন থেকেই পরিচালিত হচ্ছিল।
সরকার জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী ও কৌশলগত অংশীদার। এসব বিবেচনায় বার্নে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একজন রাষ্ট্রদূত, একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মোট ৮২টি মিশন অফিস রয়েছে।
এদিনের বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির স্বাস্থ্যের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান নিয়মিতভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন। এর আগে বুধবার রাতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছিল, হাদির অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’।
