রংপুর রাইডার্সের অভিজ্ঞ অল-রাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ গতকাল শুক্রবার একটি জ্বলজ্বলে ইনিংস খেলেন, যা ছিল তার পূর্ববর্তী দিনের ব্যর্থতার সরাসরি জবাব। বৃহস্পতিবার রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে শেষ বলে প্রয়োজনীয় এক রান করতে না পারায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। পরের দিনই সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন এবং ম্যাচসেরা হন।
ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে উত্তরণ
বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ বলে রান আউট হয়ে টাই হওয়া এবং পরবর্তীতে সুপার ওভারে হারার ঘটনাটি অনেককে ২০১৬ টি-২০ বিশ্বকাপে অনুরূপ এক হতাশাজনক ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যার কেন্দ্রেও ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তবে, শুক্রবার তিনি তার সেরা উত্তরটি ব্যাটের মাধ্যমে দেন। রংপুরের যখন শেষ ৫ ওভারে ৪৯ রানের প্রয়োজন ছিল, তখন তিনি মিরাজের একটি ওভারে তিনটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা মেরে ম্যাচের সমীকরণ সম্পূর্ণ পাল্টে দেন।
‘পজিশনটা সহজ নয়’
দুই বিপরীতধর্মী দিনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মাহমুদউল্লাহ বলেন, “১ বলে ১ রান প্রয়োজন, এটা বলা সহজ কিন্তু করা নয়।” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে যারা লেট মিডল অর্ডারে ব্যাট করে, তারা ভালোই জানে যে এই পজিশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক। এই অবস্থানে ধারাবাহিকভাবে সফল হওয়া সহজ নয়। দলের জন্য চেষ্টা করি, কখনও সফল হই, কখনও ব্যর্থ হই।”
সমালোচনা প্রসঙ্গে মন্তব্য
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া এই ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনা প্রসঙ্গে পরিষ্কার অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “সমালোচনা করা যেতেই পারে, মিডিয়ার কাজই হলো রিপোর্ট করা ও বিশ্লেষণ দেওয়া। কিন্তু আমার মনে হয়, সবকিছুরই একটি সীমা থাকে। অনেক সময় সেই সীমানা পার হয়ে যায়। অনেক ক্রিকেটার এই সমালোচনা মানিয়ে নিতে পারেন না, তাদের মনোবলে চিড় ধরে।”
বিশ্বাস ও ধৈর্য্যের ওপর জোর
তবে, সমালোচনার জবাবে তিনি কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য না দিয়ে বরং বিশ্বাস ও ধৈর্যের কথা বলেন। মাহমুদউল্লাহ বলেন, “আমি খুব ‘আউটস্পোকেন’ নই, বিনয়ী থাকতে পছন্দ করি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি কেউ তার কাজে সৎ ও নিষ্ঠাবান থাকে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ফল দেবেন। ওপরে থেকে যদি কেউ সম্মান দেন, তা কেউ আটকাতে পারবে না।”
সঠিক সময়ে বলবেন সব কথা
তিনি ইঙ্গিত দেন যে সমালোচনা বা তার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলার আরও অনেক কথা রয়েছে, তবে বর্তমান সময় বা মঞ্চটি সেগুলো বলার উপযুক্ত নয়। তিনি বলেন, “বলার অনেক কথাই ছিল এবং আমি তা ইচ্ছে করেই বলিনি। সঠিক সময় ও সুযোগ এলে অবশ্যই আমি সেসব কথা বলব।”
এই জয়ের মাধ্যমে মাহমুদউল্লাহ প্রমাণ করেছেন যে, একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কীভাবে瞬息间 সমালোচনা কাটিয়ে উঠে দলের জন্য নির্ধারক ভূমিকা রাখতে পারেন।
