যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযানের কড়া নিন্দা করেছিলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিয়ে পেত্রো বলেন, “আসুন তুলে নিয়ে যান আমাকে। আমি এখানে অপেক্ষা করছি।” ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন ট্রাম্পকে।
এরপর গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যায় মার্কিন সেনারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কলম্বিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বেড়েছে।
ট্রাম্পের হুমকির মুখে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো প্রয়োজনে আবার অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে অস্ত্র সমর্পণ করা পেত্রো একসময় বামপন্থি গেরিলা ছিলেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “আমি শপথ নিয়েছিলাম আর কখনও অস্ত্র ছুঁয়ে দেখব না…কিন্তু মাতৃভূমির প্রয়োজনে আমি আবার হাতে অস্ত্র তুলে নেব।”
পেত্রো সতর্ক করে বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বোমা হামলা চালালে চাষীরা পাহাড়ে হাজার হাজার গেরিলায় পরিণত হবে। আর দেশের বড় একটি অংশ যাকে ভালোবাসে ও সম্মান করে, সেই প্রেসিডেন্টকে যদি আটক করা হয়, তাহলে তারা জনগণের ‘বাঘ’ ছেড়ে দেবে।”
কলম্বিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে গত রোববার। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প পেত্রো সম্পর্কে বলেন, “তিনি একজন অসুস্থ মানুষ। তিনি কোকেন উৎপাদন করা এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করতে পছন্দ করেন। এটা তিনি বেশি দিন করতে পারবেন না।” এমনকি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলাটাও তার কাছে ‘ভালই শোনায়’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস ও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, গত অক্টোবরে অবৈধ মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, কলম্বিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোকেন উৎপাদনকারী দেশ। লাতিন আমেরিকার পেরু, বলিভিয়া ও কলম্বিয়া মূলত কোকা গাছের চাষ করে থাকে।
